স্বাস্থ্যের কথা

ঘুম আপনার সু স্বাস্থ্যের কথা বলে

আসুন জেনে নেই কতটুকু ঘুম আমাদের সু স্বাস্থ্যের কথা বলে অথবা  সামঞ্জস্যপূর্ণ বা আমাদের শরীরের জন্যে আসলেই দরকার। অনেকেই আমরা ঘুমের এই বিষয়টিকে মোটেই আমলে নিতে চাইনা, অথবা এটা যে খুব গুরুত্বপূর্ণ সেটাও ভাবতে চাইনা। এ বিষয়ে বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় ঘুম হল সুস্থভাবে বাঁচার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যখন আমরা কাজ করি তখন আমাদের শরীরে যে ক্ষয় হয়, ঘুম সেটিকে আবার পূরণ করে আমাদের উদ্যম এবং কর্ম তৎপরতাকে ফিরিয়ে দেয়। খুব সহজ ভাবে বলা যায়, ঘুমই আমাদের নতুন জীবন দান করে। অতএব, ঘুমকে অবহেলা করে আমাদের বাঁচার কোন উপায় নাই। আর তাই, সু স্বাস্থ্যের কথা এলেই আমাদের ঘুমের বিষয়টিকে সামনে আনতেই হয়।

পরিমিত ঘুম আপনাকে সতেজ রাখে

অনেকে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোন প্রশ্ন না তুললেও হয়ত এর পরিমাণ বা সময়কাল নিয়ে বেশ দ্বন্দ্বে থাকেন। আসলে সুস্থ শরীর নিজেই এর সময়কাল নির্ধারণ করে দেয়, আমি বলতে চাচ্ছি, একটি সুস্থ দেহ-মন প্রয়োজনমত ঘুমিয়ে আপনাকে জাগিয়ে দেয় অর্থাৎ ঘুম ভেঙে দেয়। একে আমরা বলতে পারি স্বাভাবিক ঘুম। কিন্তু কোন কারণে যখন আপনার শরীর অসুস্থ থাকে তখন ঘুম কম-বেশি ঘটতে দেখা যায়, এই কম-বেশি ঘুমই আপনাকে স্বাভাবিক থাকতে বা সুস্থ থাকতে দেয় না। এ কারণে, আপনি লক্ষ্য করে থাকবেন, যখনই অসুস্থ হয়ে আপনি ডাক্তারের কাছে যাবেন, ডাক্তার আপনার ঘুম কেমন হচ্ছে সেটে জানতে চাইবে। কারণ, ডাক্তার জানেন ঘুমের সাথে আপনার অসুস্থতারও একটি সম্পর্ক আছে। তাই অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক মাত্রার ঘুমই হল সুস্থতার লক্ষণ।

শারীরিক অসুস্থতা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়

অনেক সময় কোন রকম অসুস্থতা থেকে আপনার ঘুম স্বাভাবিক হয়না, অথবা শরীরের যে কোন সমস্যা থেকে অস্থিরতা সৃষ্টি হয় যা আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। তাই লক্ষ্য করবেন, বেশিরভাগ রোগের ঔষধের সাথে আপনার ঘুম নিশ্চিত করতেও চিকিৎসকরা ঘুম ভাল হওয়ার কোন না কোন ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকেন। কেননা একমাত্র ভাল ঘুমই আপনার স্নায়ুকে স্বাভাবিক রেখে শরীরের অন্যান্য সমস্যার উপর কাজ করতে পারে। তাই বলা যায়, ঘুম প্রতি নিয়ত ভাল এবং সুস্থ থাকতে আপনাকে সাহায্য করে যাচ্ছে। এ বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করতে সম্প্রতি আমেরিকার বিশেষজ্ঞগণ শতাধিক কল-কারখানায় এক জরিপ চালিয়ে দেখেন, যে সব কর্মচারী পরিমিত ঘুমাতে পারছেন না তাদের উপস্থিতি অনেক কম। অন্যদিকে আরও একটি জরিপে একই প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করেন, কর্মজীবী মানুষের পরিমিত ঘুমের প্রভাব উৎপাদনের ক্ষেত্রেও প্রকট, অর্থাৎ শ্রমজীবী মানুষের ঠিকমত ঘুমাতে না পারার ফলাফলে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ উৎপাদনে যেতে না পেরে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এ সব সূত্র ধরে বলা যায়, আমরা যদি যথারীতি ঘুমাতে না পারি তাহলে আমাদের কাজ করার ক্ষমতা এবং দক্ষতা দুটিই কমে যায়। তাই সু স্বাস্থ্যের কথা বলতে চাইলেই আমরা প্রথমেই ঘুম প্রসঙ্গে চলে আসি।

ঘুমের প্রতি যত্নবান হওয়া জরুরী

উপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারছি, আমাদের ঘুম নিয়মিত এবং পরিচ্ছন্ন বা নিরবচ্ছিন্ন হতে শারীরিক সুস্থতা প্রয়োজন। অপরদিকে, সুস্থ থাকতে চাইলেও পরিমিত ঘুম প্রয়োজন, অর্থাৎ ঘুমের সুন্দর এবং সার্বিক পরিচর্যা প্রয়োজন। তাহলে দেখা যাচ্ছে, সু স্বাস্থ্যের কথা আলোচনায় আনতে চাইলে আমাদের প্রথমেই ভাল এবং সুসম ঘুমের আবশ্যিক দিকগুলির দিকে খেয়াল রাখতে হবে। অতিরিক্ত পরিশ্রমে নিজেকে ঢেলে দিয়ে যেন কোন অবস্থাতেই ঘুমকে অবহেলা না করি। আসুন, ভালভাবে বাঁচতে আমরা সু স্বাস্থ্যের কথা পর্যালোচনা করি এবং সুস্থ থাকি। 

মিছবাহ ফারাজী    
 

Comments